পাম অয়েলের দাম ৪২০০-৪৫০০ রিঙ্গিতের মধ্যে ওঠানামার পূর্বাভাস

আগামী কয়েক সপ্তাহে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিল (এমপিওসি)।

আগামী কয়েক সপ্তাহে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিল (এমপিওসি)। ভোজ্যতেলের সীমিত সরবরাহ ও প্রধান বাজারগুলোয় চাহিদা নিম্নমুখী থাকার প্রেক্ষাপটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

এমপিওসি জানায়, ২০২৬ সালে সূর্যমুখী, সরিষা, সয়াবিন ও পাম অয়েল—এ চার প্রধান ভোজ্যতেলের ব্যবহার উৎপাদন প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে সামনের বছর ভোজ্যতেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে বায়োডিজেলে বাধ্যতামূলক মিশ্রণের মাত্রা বাড়ানোয় সয়াবিন তেলের চাহিদা শক্তিশালী হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের রফতানিযোগ্য সরবরাহ কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া বায়োডিজেল মিশ্রণে পরিবর্তন আনলে সেখানকার সরবরাহও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এসব কারণে ২০২৫ সালের বাকি সময় ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধান ক্রেতা দেশগুলোয় চাহিদা কম থাকায় দামের ঊর্ধ্বমুখিতার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আগস্টে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, সাব-সাহারান আফ্রিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি বেড়েছে। তবে আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় সরবরাহ কিছুটা কমেছে।

এমপিওসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের উৎপাদন বাড়তে পারে ২৫ লাখ টন। এটি আগের মৌসুমে বেড়েছিল ২ কোটি ৭০ লাখ টন। যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার কৃষকরা বেশি লাভজনক ফসল উৎপাদনে জমির ব্যবহার করছেন। এ কারণে উৎপাদন কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী সয়াবিন উৎপাদন ব্যবহারের চেয়ে বেশি হবে। কিন্তু এ সময় মজুদ বাড়ার গতি তিন বছরের তুলনায় অনেকটা কমে আসবে।

এমপিওসি আরো জানায়, অক্টোবরে পাম অয়েলের মজুদ সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। এরপর আগামী নভেম্বরে কম উৎপাদন মৌসুমে প্রবেশ করলে মজুদও হ্রাস পাবে।

আরও